CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ঢাকায় রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর উপস্থিতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার যে ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছিল, তাদের একজন রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রী বর্তমানে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে “Minister (Consular & Education)” পদে কর্মরত। এই অবস্থান থেকে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায় যে, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের আটজন কূটনীতিক গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত। তাদের মধ্যে রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রী ছিলেন অন্যতম, যিনি সে সময় “Commercial Counsellor” পদে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তান সরকার তাকে র’ (RAW)-এর স্টেশন চিফ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, অর্থনৈতিক প্রকল্প ধ্বংস এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ আনে। বর্তমানে রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে “Minister (Consular & Education)” পদে কর্মরত। এই পদ থেকে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

জামায়াতে ইসলামী কেন দেরিতে নির্বাচন চায়?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী একটি চিহ্নিত নাম—কেউ বলেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক, কেউ বলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে দগ্ধ এক বিতর্কিত দল। যে দল এক সময় ধর্মের নামে গণতন্ত্রকে কবর দিতে চেয়েছিল, আজ তারা আবারও একটি পরিচিত কৌশলে মাঠে নেমেছে—নির্বাচন চাই, তবে এখনই না। প্রশ্ন উঠেছে: এই বিলম্বের দাবির পেছনে আসলে কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে? তারা কি সত্যিই গণতন্ত্র চায়? নাকি সময় নিচ্ছে পুরনো মুখে নতুন রঙ মেখে ফিরে আসার জন্য?

জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস কখনোই গণতন্ত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। ১৯৭১ সালে তারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তাদের ছাত্রসংগঠন আল-বদর মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল, যাদের হাতে প্রাণ গেছে দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীর। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসনের ছায়ায় তারা ফের রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসে। কিন্তু তারা কখনোই দেশের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে সম্মান করেনি, বরং রাজনীতিকে ধর্মীয় উগ্রতায় চালিত করে একটি বিভাজিত সমাজ তৈরির পাঁয়তারা করেছে। আজ যখন দেশের মানুষ রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে, তখন জামায়াত চায় আরও সময়। তারা নির্বাচনের কথা বলে, কিন্তু শীগগির নির্বাচন চায় না— জামায়াত জানে, আজ যদি নির্বাচন হয়, তাহলে তারা হারবে। তাদের হাতে এখন নেতৃত্ব নেই, জনভিত্তি নেই, আদর্শ নেই—শুধু আছে এক চিরচেনা কৌশল: সাম্প্রদায়িকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাদের জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার: দেশের গৌরব নাকি স্বৈরাচারের দোসর?

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বারবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যেখানে তাদের প্রধান দায়িত্ব, সেখানে অনেক সময় সেনাবাহিনীর কিছু ব্যক্তি সরকারের স্বৈরাচারী নীতির সহযোগী হয়ে ওঠেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার কি সেই ধরনের এক স্বৈরাচারের দোসর ছিলেন?

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ভলকার তুর্ক যখন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি তারা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালায়, তবে তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে, তখন এটি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেনাপ্রধান ওয়াকার কি তখন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন?

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং জনগণের পক্ষে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক সময় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অংশ নেয়, বিরোধী মত দমন করে এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখে। যদি ওয়াকার সত্যিই স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন, তবে এটি সেনাবাহিনীর মৌলিক দায়িত্বের পরিপন্থী।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

নিষিদ্ধ উগ্র সংগঠন হিজবুত তাহেরী কীভাবে প্রকাশ্যে সমাবেশ করে?

বাংলাদেশে হিজবুত তাহেরী একটি নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন, যা ইসলামের নামে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও, এরা প্রকাশ্যে সমাবেশ, মিছিল এবং বক্তৃতা দিতে পারছে—এটি আমাদের রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার প্রমাণ। প্রশ্ন হলো, একটি নিষিদ্ধ সংগঠন কীভাবে এত সহজে মাঠে নেমে আসতে পারে? কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? কেন প্রশাসন চোখ বন্ধ করে রেখেছে?

অন্তবর্তীকালীন সরকার যখন রাজনৈতিক বিরোধীদের কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—হিজবুত তাহেরীর মতো উগ্র সংগঠন কীভাবে এত স্বাধীনতা পাচ্ছে? নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও, তারা কীভাবে বড় বড় সমাবেশ আয়োজন করে, মিছিল বের করে এবং বক্তৃতা দেয়? এর পেছনে অবশ্যই সরকার ও প্রশাসনিক দুর্বলতা বা সমর্থন রয়েছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

আইনের শাসন নেই, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু!

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসেই ১৮৯ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে—এটি আমাদের সমাজের ভয়ংকর বাস্তবতা। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার এই দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়, বরং এটি প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের ব্যথার গল্প, ভাঙা স্বপ্ন ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আর্তনাদ। বাংলাদেশে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮৯ জন নির্যাতিত নারী ও শিশুর মধ্যে: ধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী ও কিশোরী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে অনেক নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।