৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধার্য থাকলেও ২৯ তারিখ রাতেই ভোট হয়ে গেছে। ভোট ডাকাতির একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বর দিনটি ছিল ভোটগ্রহণের নামে আইওয়াশ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই ভুয়া ভোটের সংসদের কোনো বৈধতা নেই। এমন নির্বাচন দেশের ইতিহাসে আর হয়নি। নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের এই নির্বাচনের আগের দিনই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশাসনের সহায়তায় ভোট ডাকাতি করে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসন এসব অনিয়ম ঠেকাতে সক্রিয় ছিল না।
Category: Justice
৩০ ডিসেম্বর ২০১৮: জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে সেনাবাহিনীর সাথেই হবে চূড়ান্ত যুদ্ধ
বাংলাদেশ একটি সংকটময় সময় পার করছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে, কিন্তু জনগণের ভেতরে যে ভয়, যে হতাশা, এবং যে ক্ষোভ জমে উঠছে, তা আর সাধারণ কিছু নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচন মানে কেবল ব্যালটবাক্সে ভোট ফেলা নয়- এটা এখন জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে সরকারপন্থী হয়ে উঠছে, তাতে প্রশ্ন জাগে- এবার কি সেনাবাহিনীও আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি দলীয় বাহিনী বা গোলামে পরিণত হবে? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথাও আমরা ভুলিনি। ইতিহাসের এক কলঙ্কিত নির্বাচন ছিল সেটি- যেখানে ১৫৩টি আসনে কোনও ভোটই হয়নি, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বিরোধী দল বর্জন করেছিল নির্বাচনের মাঠ, আর সরকার ‘নির্বাচন’ নামক নাটক চালিয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনীকে নিস্তব্ধ পাহারাদার বানিয়ে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। সেদিন সেনাবাহিনী ছিল মাঠে, কিন্তু ছিল যেন এক নির্বাক, নিস্তেজ প্রতিমা- যারা দেখতে পেয়েছে ভোটহীন নির্বাচন, প্রশাসনিক সন্ত্রাস, অথচ কিছু বলেনি, কিছু করেনি। এমনকি মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে একতরফা বিজয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। যারা জনগণের নিরাপত্তার শপথ নিয়ে বন্দুক হাতে মাঠে নামে, তারা সেদিন ছিল সরকারের দেহরক্ষী মাত্র। সেই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়- যদি সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ না থাকে, তবে নির্বাচন মানেই একটি নাটক, যেখানে জনগণের ইচ্ছা নয়, সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় কারা ‘জিতবে’।
দুর্নীতির কারখানা হাওয়া ভবন
বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময় নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেন তারেক রহমান। তখন তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদে থাকলেও পারিবারিক রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে পুরো সরকারই নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। দলের ভেতরে এ নিয়ে যেমন ক্ষোভ ছিল, তেমনি হতাশা ছিল প্রশাসনে। কিন্তু কেউই প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না।
নিরাপদ সড়ক চাই
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতহওয়ার ঘটনায় যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, সে সময় মন্ত্রীর মুখে দেখা গেল হাসি। শুধু তাই নয়, অনেকটা স্বাভাবিক বাচনভঙ্গিতেই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। হাসতে হাসতে জানান দোষীদের শাস্তির কথা। আর সরকারের দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শোকাহত সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এহেন নির্বিকার ভূমিকার সমালোচনা করছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, অট্টহাসি দিয়ে যখন মন্ত্রী বলছেন- দোষীদের শাস্তির কথা, সে ক্ষেত্রে কতটা শাস্তি পাবেন দোষীরা?
কোটা সংস্কার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে: ফেসবুক লাইভে নুর
তিন দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। সোমবার রাত ৮টার পর ফেসবুকের লাইভে এসে এ কথা বলেন।
দাবিগুলো হল-কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের যারা হামলা করেছে তাদের বিচার, আন্দোলনে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং সরকারি চাকরিতে কোটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রাখা (৫ দফার আলোকে)। এ সময় তিনি সবাইকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
